
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে গত ফেব্রুয়ারিতে অপ্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে একই সময়ে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতিও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের (ওএনএস) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাজার প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেলেও বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ২ হাজার ৪ কোটি পাউন্ডে (প্রায় ২ হাজার ৭৭০ কোটি ডলার) দাঁড়িয়েছে।
ওএনএস জানায়, জানুয়ারিতে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর ফেব্রুয়ারিতেও শূন্য দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ মাসিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বার্ষিক হিসাবে জিডিপির এই প্রবৃদ্ধির হার ১ শতাংশ, যা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশের বাজার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। খাতভিত্তিক হিসাবে গত ফেব্রুয়ারিতে নির্মাণ খাতে ১ শতাংশ, সেবা খাতে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং উৎপাদন খাতে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
শিল্প খাতেও ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। জানুয়ারিতে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ সংকোচনের পর ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ শিল্প উৎপাদন শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ওএনএস এক বিবৃতিতে বলে, ‘ফেব্রুয়ারি মাসে খনি ও পাথর উত্তোলন খাতে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ, বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন খাতে আংশিক বৃদ্ধির কারণে মাসিক শিল্প উৎপাদনে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।’ তবে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ পতন সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে কিছুটা ম্লান করেছে বলে দপ্তরটি জানিয়েছে। খনি ও পাথর উত্তোলনের ক্ষেত্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন ৫ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে।
অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকলেও বাণিজ্য ঘাটতির চিত্রটি তুলনামূলক হতাশাজনক। ওএনএস জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ২ হাজার ৪ কোটি পাউন্ডে পৌঁছেছে, যেখানে বাজার প্রত্যাশা ছিল ১ হাজার ৯৪০ কোটি পাউন্ড। এ সময় পণ্য আমদানি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ১৯০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছায়। অন্যদিকে, রপ্তানি ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৩ হাজার ১৫০ কোটি পাউন্ডে নেমে আসে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭০ কোটি পাউন্ডে। ইইউ দেশগুলোতে রপ্তানি শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৪০ কোটি পাউন্ড এবং আমদানি ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৭১০ কোটি পাউন্ড হয়েছে। অন্যদিকে, ইইউবহির্ভূত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৮৭০ কোটি পাউন্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অবশ্য ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। দেশটিতে যুক্তরাজ্যের রপ্তানি ১১ দশমিক ৩ শতাংশ (প্রায় ৫০ কোটি পাউন্ড) বেড়েছে। যন্ত্রপাতি, পরিবহন সরঞ্জাম এবং কাঁচামাল রপ্তানি বৃদ্ধির কারণেই মূলত এই উল্লম্ফন ঘটেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ আমদানি কমে যাওয়ায় সার্বিক আমদানি ৮ দশমিক ২ শতাংশ (প্রায় ৪০ কোটি পাউন্ড) হ্রাস পেয়েছে। তবে ওএনএস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাণিজ্য শুল্ক আরোপের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানির মূল্য তুলনামূলকভাবে কমই রয়ে গেছে।

