
বিনোদন ডেস্ক : ভিয়েতনামের নান্দনিক নগরীতে বসেছিল বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল। বিশ্বের শতাধিক সুন্দরীকে পেছনে ফেলে ‘মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬’-এর কাঙ্ক্ষিত মুকুট নিজের মাথায় তুলে নিয়েছেন ডমিনিকান রিপাবলিকের সুন্দরী জোহেইরি মোলা। জমকালো এই আয়োজনে বিদায়ী মিস ওয়ার্ল্ড, থাইল্যান্ডের ওপাল সুচাতা চুয়াংস্রি নতুন বিশ্বসুন্দরীর মাথায় জয়ের মুকুট পরিয়ে দেন।
প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সেরাদের হারিয়ে প্রথম রানার-আপ হয়েছেন মিস ওয়ার্ল্ড স্পেনের এলিসাবেথ রেনেস এবং দ্বিতীয় রানার-আপ খেতাব অর্জন করেছেন মিস ওয়ার্ল্ড মালয়েশিয়ার তানুসিয়া শেঠি। ভিয়েতনামের খান হোয়া প্রদেশের সেরা সৌন্দর্যমণ্ডিত শহর না ট্রাং-এ আয়োজিত এই মহতী আসরে পুরো বিশ্ব রূপ, মেধা ও মানবসেবার এক অপূর্ব রূপকার্থের সাক্ষী হয়।
বিশ্বমঞ্চে সেরা ছয়ের তালিকায় নিজেদের স্থান নিশ্চিত করে নজর কেড়েছেন ৬টি অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিযোগী। তারা হলেন—পিপলস চয়েস বিজয়ী মিস ওয়ার্ল্ড ইরিত্রিয়ার স্নিথ হাবতেয়াব, ইউরোপ মহাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী স্পেনের এলিসাবেথ রেনেস, ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ বিজয়ী মালয়েশিয়ার তানুসিয়া শেঠি, এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের মিস ওয়ার্ল্ড ভিয়েতনামের লে নগুয়েন বাও এনগোক, আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বিজয়ী ডমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা এবং আফ্রিকা মহাদেশের প্রতিনিধি দক্ষিণ আফ্রিকার রোমান্দা হোমবির।
১৯৫১ সালে যুক্তরাজ্যে প্রখ্যাত সংগঠক এরিক মরলি কর্তৃক প্রবর্তিত এই প্রতিযোগিতাটি বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা হিসেবে খ্যাত। কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচনে প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ, বন্ধ দরজার ভেতরে ব্যক্তিত্ব যাচাইয়ের সাক্ষাৎকার এবং সরাসরি মঞ্চে উপস্থিত বুদ্ধি ও সাধারণ জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
এ বছরের বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় মোট ১১১ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। তাদের আফ্রিকা, আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান, ইউরোপ এবং এশিয়া ও ওশেনিয়া—এই চারটি মহাদেশীয় অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল। প্রারম্ভিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে সিলেকশন কমিটি প্রথমে শীর্ষ ৪০ জন রূপসীকে কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য নির্বাচন করে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে প্রতিভাবানদের মধ্য থেকে বেছে নেওয়া হয় শীর্ষ ২০ এবং সেখান থেকে শীর্ষ ১২ জন প্রতিযোগীকে। সেখান থেকেই চূড়ান্ত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে উঠে আসেন সেরা ৬ ফাইনালিস্ট, যা থেকে পরবর্তীতে বিজয়ী ও রানার-আপদের নাম ঘোষণা করা হয়।
এবারের আসরটি ছিল বেশ কিছু নতুনত্ব ও চমকে ভরা। প্রথমবারের মতো এই বিশ্বমঞ্চে পদার্পণ করে আত্মপ্রকাশ করেছে ফ্রেঞ্চ গায়ানা, ইরিত্রিয়া, মোজাম্বিক, পাকিস্তান এবং মালদ্বীপের প্রতিযোগীরা। অন্যদিকে, বিশেষ ব্যক্তিগত ও প্রযুক্তিগত কারণে ইকুয়েডরের সামান্থা কুয়েনেদিত, আর্মেনিয়ার মনিকা হারুতজুনজান এবং টোগোর নাদিরাতু আফোলাবি শেষ মুহূর্তে প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেন।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রূপসীদের এই মহামিলনমেলার সফল সমাপ্তির পর পরবর্তী আয়োজক দেশের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মিস ওয়ার্ল্ডের আগামী ৭৪তম সংস্করণটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ায়।

