
ডেস্ক নিউজ : শুধু ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বা ভাইরাল হওয়ার জন্য বড় বড় কথা বলে রাজনীতি হয় না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘বট বাহিনী’ দিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে মানুষকে ছোট করে, আজেবাজে কথা বলে ভাইরাল হওয়া যায়, কিন্তু রাজনীতি হয় না। রাজনীতি করতে হলে রাস্তায় নেমে গুলি খেতে হয়, যা বিএনপির নেতাকর্মীরা করেছেন।
মঙ্গলবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি তরুণদের রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা করে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, আমরা খুশি হয়েছিলাম যখন দেশের ছেলেমেয়েরা দেশকে ভালোবেসে মাঠে নেমেছিল। তারা প্রমাণ করেছিল যে, নতুন প্রজন্ম রাজনীতি পছন্দ করে না বা দেশকে ভালোবাসে না, এই ধারণা মিথ্যা। কিন্তু আমরা এটাও দেখেছি, ৫ আগস্টের পর যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল, সেখানে থাকা নবীনদের বিরুদ্ধে আনফরচুনেটলি গত দেড় বছরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নতুন বাংলাদেশের কথা বললে আমরা এটা আশা করি না।
তিনি আরও বলেন, সরকারে থেকে কাজ করতে হলে সাহসের পাশাপাশি অভিজ্ঞতা ও বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন। বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল, যারা ফেসবুকে রাজনীতি করে না, রাস্তায় গুলি খেয়ে রাজনীতি করেছে। ১৯৭১ সালে যদি ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থাকত, তাহলে দেশ স্বাধীন হতো কি না, তা আমাদের জানা নেই।
এ সময় তিনি সংসদে উপস্থিত তরুণ সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আব্দুল্লাহর নাম উল্লেখ করে তাদের আবেগের প্রতি সম্মান জানান এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি এবং তার ভাষণের বৈধতা নিয়ে ওঠা বিতর্কের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের শহীদ এবং গত ১৭ বছর ধরে গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা ৫ আগস্ট পেয়েছি। এরপর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে যে অন্তর্বর্তী সরকার এসেছিল, সেই সরকারকে এই রাষ্ট্রপতি শপথ পড়িয়েছিলেন। সেই সরকারের সামনে বসে থাকা আমার ছোট ভাইয়েরাও সদস্য ছিলেন। এখন রাষ্ট্রপতি বা তার ভাষণ যদি অবৈধ হয়, তাহলে তৎকালীন সরকারও অবৈধ ছিল কি না, তা ভেবে দেখা দরকার।
বর্তমান সংসদকে তিনি ‘ইউনিক পার্লামেন্ট’ হিসেবে আখ্যা দেন। শামা বলেন, বিরোধী দলের নেতা ঠিকই বলেছেন, এটি মজলুমদের সংসদ। এখানে গুম থেকে ফিরে আসা, ‘আয়নাঘর’ থেকে ফেরা এবং ফাঁসির মঞ্চ থেকে বেঁচে আসা সংসদ সদস্যরা আছেন। হাজারো মামলার ভার মাথায় নিয়ে কারাভোগ করা মানুষরাও এখানে আছেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র, শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির পক্ষে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য এই মজলুমদের আন্দোলনেরই প্রতিফলন।
‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপিকে জ্ঞান দিয়ে লাভ নেই। দেশের জন্মের পর থেকে খাল খনন, গার্মেন্টস শিল্প, সংসদীয় গণতন্ত্র, তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে শুরু করে নারী শিক্ষার মতো বড় সংস্কারগুলো বিএনপির হাত ধরেই হয়েছে। বর্তমানে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ডসহ নতুন প্রজন্মের জন্য যেসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সবই তারেক রহমান ও বিএনপির হাত দিয়ে হচ্ছে। ভবিষ্যতে জুলাই সনদ এবং গুম-খুনের বিচারও বিএনপির হাত দিয়েই বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

